ভূমিকা
মানুষের জীবনের সবচেয়ে অবশ্যম্ভাবী সত্য হলো মৃত্যু। জন্মের পর থেকেই আমরা মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলি, অথচ অধিকাংশ মানুষ এই সত্যকে ভুলে দুনিয়ার মোহে ডুবে থাকে। ইসলাম আমাদের শেখায়—মৃত্যু শেষ নয়; বরং এটি এক জগত থেকে আরেক জগতে প্রবেশের দরজা। মৃত্যুর পর রয়েছে বারযাখ, এরপর হাশরের মাঠ, হিসাব, এবং চূড়ান্ত গন্তব্য জান্নাত বা জাহান্নাম। এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মৃত্যু ও পরবর্তী জীবনের হকিকত সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
মৃত্যু কী?
মৃত্যু মানে সম্পূর্ণ বিলুপ্তি নয়। ইসলামি দৃষ্টিকোণে মৃত্যু হলো—রূহ (আত্মা) দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন—“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫) এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—কেউ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে না; ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাইকে একদিন এই পথেই হাঁটতে হবে।
মৃত্যুর সময় কী ঘটে?
মৃত্যুর মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে—নেককার মুমিনের কাছে রহমতের ফেরেশতা আসে কাফির বা পাপীর কাছে শাস্তির ফেরেশতা আসে নেককার বান্দার রূহ সহজে বের হয়ে আসে, যেমন কলস থেকে পানি ঢলে পড়ে। আর গুনাহগারের রূহ বের হয় কষ্টসহকারে, যেমন ভেজা উলের ভিতর থেকে কাঁটা টেনে বের করা। এ সময় মানুষের চোখের সামনে আখিরাতের পর্দা খুলে যায়, কিন্তু তখন আর তাওবা করার সুযোগ থাকে না।
কবরের জীবন (বারযাখ)
মৃত্যুর পর মানুষ প্রবেশ করে বারযাখ নামক জগতে। এটি দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝামাঝি এক জীবন। কবরে তিনটি প্রশ্ন দাফনের পর দুই ফেরেশতা—মুনকার ও নাকির এসে তিনটি প্রশ্ন করেন: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে? নেককার ব্যক্তি সহজে উত্তর দিতে পারবে: আমার রব আল্লাহ আমার দ্বীন ইসলাম আমার নবী মুহাম্মদ ﷺ তখন কবর জান্নাতের বাগানে পরিণত হবে। অন্যদিকে, গুনাহগার বা অবিশ্বাসী উত্তর দিতে পারবে না; তার কবর হবে জাহান্নামের গর্তসম।
কবরের আজাব ও নেয়ামত
কবরের জীবনেই মানুষ তার আমলের ফল পেতে শুরু করে।
কবরের নেয়ামত
প্রশস্ত কবর *জান্নাতের বাতাস* শান্তি ও প্রশান্তি
কবরের আজাব
কবর সংকুচিত হওয়া *আগুনের তাপ*ফেরেশতাদের কঠোর শাস্তি

